গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে— বাতাস নেই, আলো নেই, আর দোকানের সামনে নেই কোনো ক্রেতার ভিড়। ফ্যান বন্ধ, ফ্রিজ বন্ধ—শুধু অপেক্ষা। সময় যেন থেমে আছে। এমন এক বাস্তবতায় ঢুকে পড়েছে দেশের অনেক এলাকা, যেখানে বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু খবর নয়, বরং প্রতিদিনের কষ্ট।
নাটোর সব দোকানে বসে আছেন ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা। চারদিকে তাকালেই বোঝা যায়—দোকানে পণ্য আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। তার ভাষ্য, আগে এই গরমে ফ্যান বিক্রি হতো অনেক, কিন্তু এখন বিক্রি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। গরম বাড়লেও ক্রেতা আসছে না, কারণ বিদ্যুৎই নেই।
কিন্তু বেড়েছে ডিসি ব্যাটারি ডিসি ফ্যান এবং লাইট ক্রয় বিক্রয় মূল্য বেশি হলেও ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছি এখন চার্জে চালিত পণ্যগুলো
দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে শুরু হওয়া তীব্র গরমের মাঝেই হঠাৎ দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। এই সংকট এতটাই গভীর হয়েছে যে দেশের প্রায় ৬৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদনে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আর বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০০ মেগাওয়াটে।
ফলে শহর থেকে গ্রাম— সব জায়গাতেই লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের বিষয়। তবে গ্রামের অবস্থা আরও কঠিন। অনেক জায়গায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
দিনের কষ্ট শেষ হলেও রাত যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পুরো এলাকা। অনেক দোকানদারের মতে, রাতে সমস্যা আরও বেশি— কারণ আলো না থাকলে দোকানে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পুরো পরিস্থিতি যেন এক অদৃশ্য চাপে ফেলে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট আর তীব্র গরম—সব মিলিয়ে জীবন হয়ে উঠেছে কঠিন। যেখানে একসময় দোকানে ভিড় থাকত, সেখানে এখন শুধু নীরবতা।
একই চিত্র দেখা গেছে একটি ছোট রেস্টুরেন্টেও। ফ্রিজে রাখা খাবার ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মালিক বলছেন, তীব্র গরমে কেউ বসে খেতেও পারছে না, আর ব্যবসাও প্রায় বন্ধ। প্রতিদিনই বাড়ছে লোকসান। কাপড়ের দোকানগুলোর ও ঠিক একই অবস্থা।

