পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চাই সচেতনতা
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো পশু কোরবানি। তবে কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল দায়িত্ব শুরু হয়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ সময় কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও জীবাণুমুক্তকরণ
পশু জবাইয়ের পরপরই রক্ত ও আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। রক্ত চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বাড়ে। জবাইয়ের স্থানটি প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোয়ার পর ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। পশুর ময়লা-আবর্জনা খোলা জায়গায় না ফেলে নির্দিষ্ট ব্যাগে ভরে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার নির্ধারিত ডাস্টবিনে রাখতে হবে।
চামড়া সংরক্ষণ
পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা করা উচিত। যদি বিক্রি করতে দেরি হয়, তবে চামড়ায় পর্যাপ্ত লবণ লাগিয়ে রাখতে হবে। লবণ না লাগালে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
মাংস বণ্টন ও সংরক্ষণ
ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম। এক ভাগ নিজের, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের এবং অন্য ভাগ গরিব-দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। ফ্রিজে মাংস রাখার আগে অবশ্যই ভালো করে রক্ত ও পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস ছোট ছোট প্যাকেটে সংরক্ষণ করলে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা
কোরবানির ঈদে মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খেলে পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে চর্বি এড়িয়ে খেতে হবে। খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও লেবুর শরবত পান করা শরীরের জন্য উপকারী।
ঈদের আনন্দ পূর্ণ করতে পশু কোরবানির পাশাপাশি আমাদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
——————————
Report M.Monir
NCC News 24

