38 দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর কি তবে শান্তির সুবাতাস নাকি এটা বড় কোন ঝড়ের আগের নিরাবতা?
যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে আগামী 10 এপ্রিল ইসলামাবাদে মুখোমুখী বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনার মূল ভিত্তি তেহরানের দেয়া 10 দফা প্রস্তাব। যেখানে হরমুস প্রণালীতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মত কঠোর শর্ত রেখেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের 45 দিনের যুদ্ধবিরোতি প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছিল। উল্টো ওয়াশিংটনের দিকে ছুড়ে দিয়েছিল 10 দফার করা শর্ত। শুরুতে হোয়াইট হাউস পাত্তা না দিলেও শেষ পর্যন্ত সুর নরম করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই 10 দফাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মাঝখান থেকে বাজিমাত করেছে পাকিস্তান। তাদের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরোতির পর শুরু হচ্ছে আসল স্নায়ু যুদ্ধ। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে বসছে দুই চিরশত্রুর হাই প্রোফাইল বৈঠক। কিন্তু কি আছে দর কষাকশির ভিত্তি এই 10 দফায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যে রূপরেখা প্রকাশ করেছে তাতে স্পষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের রাস নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তেহরান।
সবচেয়ে বড় শর্ত হরমুজ প্রণালী। এর নিয়ন্ত্রণ এবং যাতায়াত প্রোটোকল থাকবে সম্পূর্ণ ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে। যা তেহরানকে ওই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা দেবে। এখানেই শেষ নয়। ইরানের মিত্রদের উপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো কঠিন দাবিও জুড়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অতীত সিদ্ধান্তগুলো বাতিলের শর্ত দিয়েছে ইরান।
বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে বিনা শর্তে। আর এই পুরো 10 দফা চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে অনুমোদন বা গ্যারান্টির শর্তও দিয়েছে তেহরান।
তেহরানের বার্তা স্পষ্ট। আমেরিকাকে তারা একবিন্দুও বিশ্বাস করে না। তাই 16 আনা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের পথ ছাড়বে না তারা। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন দাবি করেছে ট্রাম্প নাকি ইরানের 10 দফায় মেনে নিয়েছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাদের ফ্রড বলে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফলে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে অদ্ভুত। দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজেদের মত করে জয় দাবি করছে। এখন দেখার বিষয় 14 দিন পর ইসলামাবাদ থেকে শান্তির সাদা কবুতর ওড়ে নাকি নতুন করে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা।

