হরমুজ প্রণালি নিয়ে দাবি নয়, এটি ভৌগোলিক, কৌশলগত ও আইনগতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বের অংশ। যা সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কেন অর্থহীন – বৃহস্পতিবার ফার্স সংবাদ সংস্থার এক বিশ্লেষণে তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তাদের মতে-
১. হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা: ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত, যে অর্জনের জন্য আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই। তাদের মতে
হরমুজ প্রণালি কোনো দাবি নয়, বরং এটি একটি ভৌগোলিক ও আইনগত বাস্তবতা যা ইরানের কৌশরগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অর্জন যুদ্ধের পর স্থিতিশীল হয়েছে এবং আজ এটি একটি কৌশলগত নীতি হিসেবে স্বীকৃত। এ বিষয়ে আলোচনা করা মানে বিদ্যমান বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং এমন একটি বিষয়কে আবার উন্মুক্ত করা যার জন্য বাইরের বৈধতার প্রয়োজন নেই। ইরান দেখিয়েছে যে কোনো দেশ এই বাস্তবতা পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়, তাই এ বিষয়ে আলোচনা শুধু অকার্যকরই নয়, বরং ক্ষতিকর এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের শামিল।
২. পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ‘রেড লাইন’: আলোচনার মানে সীমা অতিক্রম করা পারমাণবিক বিষয় (যেমন সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, মজুদ) এবং ইরানের আঞ্চলিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে রেড লাইন হিসেবে ঘোষিত। এসব বিষয়ে আলোচনা করা মানে মূলত সেই সীমারেখা ভাঙা, কারণ আলোচনায় প্রবেশই অন্য পক্ষকে বিচারক বা মূল্যায়নকারীর অবস্থানে বসায়। যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু সুবিধা নিতে চায় যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করতে পারেনি, আর আলোচনা সেই লক্ষ্য পূরণের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ: মার্কিনীদের হুমকি ও অনুরোধের দ্বৈততা এটাই প্রমাণ করে যে তাদের কোনো সদিচ্ছা নেই। ট্রাম্প ও তার দল একই সঙ্গে প্রকাশ্য হুমকি এবং পরোক্ষ বার্তা (মধ্যস্থদের মাধ্যমে) পাঠায়। এই দ্বৈত আচরণ দেখায় যে মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে মূল্যায়ন করা এবং শক্তির একটি চিত্র তৈরি করা, সমস্যার সমাধান নয়। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রকে কম খরচে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়। অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আলোচনার সময় দুইবার হামলা হয়েছে। তাই এমন আচরণের পর আলোচনা করা অযৌক্তিক।
৪. আলোচনা ছাড়া কীভাবে যুদ্ধ শেষ হতে পারে? -ইরানের যুদ্ধ থামাতে আলোচনার প্রয়োজন নেই; বরং শত্রুকে ‘খেলার নিয়ম’ বুঝতে হবে, যদি স্থল আক্রমণ হয়, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হবে পাল্টা স্থল লক্ষ্য।
যদি ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও তেল স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
হত্যাকাণ্ডেরও নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই স্পষ্ট অবস্থান জানানোর জন্য আলোচনার প্রয়োজন নেই। যদি ক্ষতিপূরণ বা জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিষয় থাকে, তবে তা লিখিত ও পরোক্ষভাবে (আইনি চ্যানেল বা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতার মাধ্যমে) করা যেতে পারে। সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা কেবল প্রতিপক্ষকে সময় ও সুবিধা দেয়, কিন্তু ইরানের জন্য তা প্রয়োজনীয় নয়।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা কোনো হুমকি দূর করার উপায় নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরানের নীতিনির্ধারকেরাও জনগণের মতোই এটি উপলব্ধি করেন যে, অর্জিত অবস্থান রক্ষা করা এবং স্পষ্টভাবে রেড লাইন ঘোষণা করা এমন আলোচনার চেয়ে বেশি কার্যকর, যার খরচ লাভের চেয়ে বেশি।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি
Report M.Monir
NCC News 24

